ক্লান্তি কি?
শারীরিক বা মানসিক শক্তির অভাবে মানুষ কোন সুস্পষ্ট কারণে মানুষিক যে দুর্বলতা অনুভব করে তাকে ক্লান্তি বলে। সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন: "'ক্লান্তি' বলতে খুব ক্লান্ত হয়ে যাওয়া বা প্রত্যাশিত শক্তি বজায় রাখতে সক্ষম না হওয়া বোঝায়। অবসন্নতা 'কেউ কতটা ক্লান্ত হয়ে যায় তার একটি পরিমাপ" "
ক্লান্তির কারণ কী?
-পারিবারিক সমস্যা নিয়ে সর্বদা হতাশ হয়ে ক্লান্তি অনুভব করেন।
-বাজারে বিক্রি হওয়া ক্যান ও বন্ধ পদার্থ গ্রহণে অ্যালার্জি হয় । অ্যালার্জির কারণে ব্যাক্তি সমস্যায় পড়েন এবং তার স্বভাব খিটখিটে হয়ে যায়।
-ভাইরাল সংক্রমণের পরে অবসন্নতা কেন ঘটে তা গবেষকরা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি। কিছু গবেষক বিশ্বাস করেন যে মাউস লিউকেমিয়ায় প্রভাব ক্লান্তি সৃষ্টি করে।
-শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি দ্রুত ঘুমেতে পারেন না।তাই ক্লান্তি অনুভব করেন।
-ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যাক্তি খুব দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করেন।
-স্ট্রেস এর কারনে ক্লান্তি হতে পারে ।
ক্লান্তি দূর করার উপায়
তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা
ভোরে ঘুম থেকে উঠার উপকারিতা সম্পর্কে জানে না এমন মানুষ কমই আছে। নানা উপকার সমৃদ্ধ এই অভ্যাস যেমন আপনাকে সফল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে তেমনি আপনার ক্লান্তিকেও দূর করবে। দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যহানী করে আপনার শরীরকে দুর্বল করে তোলে ফলশ্রুতিতে একটু পরিশ্রমেই আপনার শরীরে ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই এই অভ্যাসকে পরিবর্তন করে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠাত অভ্যাস করতে হবে। তাহলে আপনার সময় ও অপচয় হবে না এবং আপনার ক্লান্তিও দুর হবে
শরীরচর্চা
শরীরচর্চা আপনার শরীরে ক্লান্তিকে বাসা বাধতে দেয় না এবং সাথে সাথে অলসতাকে দূর করার জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকারী মাধ্যম। আমরা অনেকেই অলসতার কারনে সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি করি। যার কারনে প্রত্যেকদিন আমরা আমাদের অনেক মূল্যবান সময় হারিয়ে ফেলি। যা আমাদেরকে আমাদের লক্ষ হতে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। সময়ের অপব্যবহার করলে ফলাফল যে আশা অনুরূপ হয় না, সে কথা আমাদের অজানা নয়। তাই আমাদের সকালে ঘুম থেকে উঠে কমপক্ষে ১ ঘন্টা এক্সারসাইজ করা প্রয়োজন। তার ফলে আমাদের অলসতা দূর হবে। এবং অলসতা দূর হওয়ার পাশাপাশি আমাদের শরীরও সুস্থ এবং সবল থাকবে।
কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া
একটানা কাজ করলে কাজের প্রতি যেমন অনিহা সৃষ্টি হয় তেমনি একঘেয়েমিও দেখা দেয়। তখন কাজ করতে আমাদের মন সাচ্ছন্দ বোধ করে না। এসব কিছুর ফলশ্রুতিতে শরীরে ক্লান্তির দেখা দেয়, বাসা বাধে অলসতা। ফলে কাজের গতি বাড়ে না, এবং দেখা যায় কাজটি অসম্পূর্ণই থেকে যায়। আর এসবের কারনে সাফল্যের উচ্চশিখরে পৌঁছানোর আগেই হোচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়। তাই কাজকে সহজ এবং আনন্দময় করে তুলতে কাজের ফাকে ফাকে বিশ্রাম নেওয়া খুব জরুরী। এতে করে শরীরে ক্লান্তি ভাব আসে না একঘেয়েমিও বোধ হয় না। কাজের গিতিও সাবলীল থাকে।
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম
পরিমাণ মত ঘুম শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমার মতে এটির উপরই নির্ভর করে সারাদিন কেমন কাটবে। কেননা ঘুম কম হলে মানুষের মন মেজাজ খিটখিটে থাকে। কাজে মন বসে না এবং অল্পতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। ফলে আলসতার চাদর সারা শরীর মুড়িয়ে নেয়। তাই শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা
পানির অপর নাম জীবন। এই উক্তিটি আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসতেছি। আমাদের শরীরে পায় ৭০% ই পানি। তাই শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি প্রডিউস না করলে আমাদের শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। যার ফলে আমাদের শরীর ক্লান হয়ে পরে অল্পতেই। হাইড্রাইড আমাদের আমাদের শরীরের দুর্বলতাকে কাটিয়ে তোলে। তাই শরীরের পানির পূরন করতে পর্যাপ্তি পরিমাণে পানি পান করা প্রয়োজন।
পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা
দেহে পুষ্টি গুনাগুনের অভাব থাকলে দেহের শক্তি ক্ষয় হতে থাকে। শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয় যার ফলে সামান্য পরিশ্রমেই আপনার শরীর ক্লান্ত হয়ে পরে। অল্প কাজ করলেও ক্লান্তির পরিসর প্রচুর হয়ে দাঁড়ায়। তাই দেহের পুষ্টিগুণ এবং শক্তি সঞ্চয় করার জন্য প্রচুর পরিমানে পুষ্টিজাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন: ডিম, কলা, দুধ, মাছ- মাংশ, শাকসবজি এবং আমিষ জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। তাহলে দেহে পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চয় থাকবে এবং ক্লান্তি আসবে না।
বিনোদনের ব্যবস্থা করা
কাজের একঘেয়েমিতে নিজেকে বন্দি করে রাখলে কাজের অগ্রগতি ভালো হয়না বললেই চলে। ধীরে ধীরে কাজের প্রতি অনিহা চলে আসে, ক্লানি গ্রাস করে। অলসতাও মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও লক্ষ্য করা যায়। আর আমরা জানি যে যেই কাজে আত্মবিশ্বাসের খুটি নড়বড়ে সেই কাজে কখনো সাফল্য আসে না। তাই এসব কাটিয়ে তুলতে বিনোদন খুব কার্যকারী একটি মাধ্যম। এইজন্য আপনি হয়ত আপনার কোনো প্রিয় মুভি দেখতে পারেন অথবা পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন। এসব করলে আপনার মন সতস্ফুর্ত থাকবে এবং কাজের ক্ষেত্রে ক্লান্তিও আপনাকে ছুঁতে পারবে না।
শরীরের ক্লান্তি দূর করে যে খাবারগুলো:
মধু
মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ আছে যা শরীরে শক্তি যোগায় এবং ক্লান্তি দূর করে। এর অন্যান্য উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
কলা
কলাতে থাকে পটাসিয়াম, পাশাপাশি ভিটামিন বি, সি, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট দেহে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে। প্রতিদিন সকালে একটি হলেও কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন।
ডার্ক চকোলেট
চকোলেট দ্রুত শক্তি বাড়ায় এবং মেজাজ ভালো করে। এর মধ্যে রয়েছে থিব্রোমিন ও ট্রিপটোফেন। মস্তিষ্কে ভালো অনুভূতির হরমোন তৈরির মাধ্যমে এটি মনকে শিথিল করতে সাহায্য করে।
চা বা কফি
শরীরকে চাঙা করতে চা বা কফি বিশেষ সহায়ক। এটি হৃৎযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়ায় এবং শরীরকে উদ্দীপ্ত রাখে। তবে চা বা কফি বেশি পান করলে রাত্রে নিদ্রাহীনতা দেখা দিতে পারে।
ডিম
ডিম এর মধ্যে রয়েছে প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড। এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি। এটি শক্তি বাড়াতে সহায়ক। ক্লান্তি দূর করতে ডিম খেতে পারেন।
বাদাম
ক্লান্ত লাগলে এক মুঠো বাদাম খাওয়া দ্রুত শক্তি জোগাতে ভালো কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, আঁশ, ভালো চর্বি, মিনারেল (যেমন : ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট) ইত্যাদি। শক্তি বাড়াতে এবং কোষ তৈরিতে বাদাম বেশ উপকারী।
দই
দই এ প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে যা এনার্জির ঘাটতি পূরণ করার সবচেয়ে জরুরি উপাদান। তাই প্রতিদিন ১ কাপ দই খান। ক্লান্তি আসবে না শরীরে।

0 মন্তব্যসমূহ